“নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি“ ড. মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদের একটি প্রভাবশালী কবিতা, যা সমাজের নিপীড়িত মানুষের যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি তুলে ধরে। এই কবিতায় কবি প্রশ্ন করেন—“ভোর কি আসবে না? ভয় কি কাটবে না?”—যা একটি অন্ধকার সময়ের শেষের আশার প্রতীক। তিনি শোষণ, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।
কবিতার ভাষা সরল হলেও এর ভাব গভীর। প্রতিটি পঙ্ক্তিতে কবি সমাজের অসাম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের চিত্র আঁকেন। তিনি বলেন, “অদৃশ্য সিন্ডিকেট রাস্তায়-রাস্তায়, অফিসে-অফিসে, সকল জনপদে / নিয়ত ভাগ বসে ঘাম ঝরা উপার্জনে,” যা বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্র।
এই কবিতা কেবলমাত্র একটি সাহিত্যকর্ম নয়; এটি একটি প্রতিবাদ, একটি আহ্বান। কবি আমাদেরকে সচেতন হতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। “নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি” তাই আমাদের সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল।

নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি
ভোর কি আসবে না? ভয় কি কাটবে না?
অন্ধকার টানেলের শেষ প্রান্ত কোথায়?
আমি নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি শুনতে পাই।
আসবে কি কোন নেতা?
মানবতার তরে লড়ে যাবে নির্ভয়ে।
কবে আসবে নব জাগরন? ফুটবে হাসি শোষিতের মুখে, পরাজিত হবে সব শোষকের দল।
এত আশা, বুক ভরা স্বপ্ন
চারদিকে শান্তির ফোয়ারা
প্রচার যন্ত্রে সদা উল্লাস
গতিশীল প্রগতি
তবে কেন নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি শুনতে পাই?
একদিকে সম্পদ হারানোর কান্না
অন্যদিকে সম্পদগ্রাসীর অট্টহাসি শুনতে পাই।
অদৃশ্য সিন্ডিকেট রাস্তায়-রাস্তায়, অফিসে-অফিসে, সকল জনপদে
নিয়ত ভাগ বসে ঘাম ঝরা উপার্জনে,
অনৈতিক অর্থে প্রাচুর্য, জৌলুস, চকচকে প্রাসাদ
রাতের আঁধারে জুয়াড়ির রুম হতে অট্টহাসি শুনতে পাই,
আবদ্ধ রুমে মুদ্রার ছড়াছড়ি দেখতে পাই।
একদিকে অর্থ উড়ানোর নেশা
অন্যদিকে খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে অভাব
ইচ্ছে পূরনে ব্যর্থ, দীর্ঘশ্বাস দেখতে পাই;
খসে পড়ে প্লাস্টার, জরাজীর্ণ দালানের ইট
ছাপড়া ঘরে অস্থায়ী বসবাস
নিষ্পেষিত জনতার কান্না শুনতে পাই।
ক্ষমতা, প্রাচুর্য, সম্পদের পাহাড়ে সর্বগ্রাসী দল করে বসবাস
তবুও কেন দুঃস্বপ্নে ওদের ঘুম ভাঙ্গে বার বার?
কারা যেন সবই কেঁড়ে নিতে চায়
দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙ্গে বার বার।
চারপাশে সশস্ত্র পাহারাদার
নিঃস্ব, ভিখারীর বাচ্চাদের উপস্থিতি নাই
তবুও কেন ওদের কান্না শুনতে পায়?
আমি কেন নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি শুনতে পাই?
অপেক্ষায় হাওয়ায় জাহাজ
পাড়ি দিতে বাঁধা নাই তেপান্তর
অধিকারহারা মানুষের ভিড় নাই; চিৎকার, চেচাঁমেচি নাই
ছোটলোকের গালাগাল নাই
তবুও কেন সর্বগ্রাসীর মনে ভয়, চোখে নাই ঘুম?
কেন নিষ্পেষিত জনতার পদধ্বনি শুনতে পায়?
