মহাদেব সাহার লেখা “এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না” একটি গভীর আবেগে মোড়া প্রেমের কবিতা, যা পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনুরণন তোলে। এই কবিতায় কবি প্রেমের এক অবিরাম অপেক্ষা, বিচ্ছেদ এবং ভালোবাসার চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন। সময়ের কল্পনাতীত পরিসর — “এক কোটি বছর” — ব্যবহার করে কবি প্রেমের অনুপস্থিতিকে চরম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেখানে প্রেমিক বা প্রেমিকার অনুপস্থিতি যেন চিরন্তন বেদনার রূপ নেয়।
এই কবিতায় ব্যবহৃত ভাষা সহজ অথচ গাঢ়; প্রতিটি পঙ্ক্তিতে রয়েছে নিরব অভিমানের ছায়া ও গভীর আবেগের প্রকাশ। কবি যেন এক নিঃসঙ্গ আত্মার আর্তি শোনান, যার হৃদয় এখনো ভালোবাসার স্মৃতি বয়ে বেড়ায়। কবিতাটি কেবল প্রেমের নয়, এটি সময়, স্মৃতি এবং মানুষের একাকিত্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক হৃদয়স্পর্শী অভিব্যক্তি।
“এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না” কবিতাটি আবৃত্তির জন্যও অত্যন্ত উপযোগী, কারণ এর প্রতিটি শব্দে রয়েছে আবেগ, ছন্দ এবং শ্রুতিমাধুর্য, যা সহজেই শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এটি বাংলা সাহিত্যে প্রেমের আধুনিক অভিব্যক্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না
এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার
হবো ভরা দামোদর
… কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;
তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে
অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর,
ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে
কিংবা বোমারু বিমান ওড়া
শঙ্কিত শহরে।
যদি জানি একবার দেখা পাবো তাহলে উত্তপ্ত মরুভূমি
অনায়াসে হেঁটে পাড়ি দেবো,
কাঁটাতার ডিঙাবো সহজে, লোকলজ্জা ঝেড়ে মুছে
ফেলে যাবো যে কোনো সভায়
কিংবা পার্কে ও মেলায়;
একবার দেখা পাবো শুধু এই আশ্বাস পেলে
এক পৃথিবীর এটুকু দূরত্ব
আমি অবলীলাক্রমে পাড়ি দেবো।
তোমাকে দেখেছি কবে, সেই কবে, কোন বৃহস্পতিবার
আর এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না।
