হেলাল হাফিজের “যাতায়াত” কবিতাটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। এই কবিতায় কবি জীবনের যাত্রাপথ ও মানুষের চলাচলের ভাবার্থের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। “যাতায়াত” শব্দের অর্থ হচ্ছে চলাফেরা বা গমনাগমন, যা জীবনের পরিবর্তনশীলতা, সংকট ও স্বপ্নের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কবিতায়। হেলাল হাফিজ এই কবিতায় মানুষের মানসিক অবস্থার দোলাচলের কথা বলেছেন, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুভূতি, চিন্তা ও বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়।
কবিতাটি সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা হলেও এর ভাবগভীরতা পাঠককে গভীরভাবে ভাবায়। এতে যাতায়াত অর্থ শুধু ভৌগলিক বা শারীরিক গমনাগমন নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক যাত্রার প্রতিফলন। কবির পঙক্তিগুলোতে জীবনের ওঠাপড়ার পাশাপাশি আশার আলো ও পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
হেলাল হাফিজের কবিতার বিশেষত্ব হলো দৈনন্দিন জীবনের সহজ ঘটনা ও অনুভূতিকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে সহজেই স্পন্দন জাগায়। “যাতায়াত” কবিতাটি তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যারা জীবনের নানা পরিবর্তন ও সংকটের মধ্য দিয়ে নিজের পথ খুঁজছেন। এটি একটি মানবিক অনুভূতির প্রতীক, যা সময়ের আবর্তে নতুন অর্থ ও শক্তি খুঁজে পাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

যাতায়াত কবিতা
কেউ জানে না আমার কেন এমন হলো।
কেন আমার দিন কাটে না রাত কাটে না
রাত কাটে তো ভোর দেখি না
কেন আমার হাতের মাঝে হাত থাকে না কেউ জানেনা।
নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে অতোটা পথ একলা এলাম
পেছন থেকে কেউ বলেনি করুণ পথিক
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও,
কেই বলেনি ভালো থেকো সুখেই থেকো
যুগল চোখে জলের ভাষায় আসার সময় কেউ বলেনি
মাথার কসম আবার এসো
জন্মাবধি ভেতরে এক রঙিন পাখি কেঁদেই গেলো
শুনলো না কেউ ধ্রুপদী ডাক,
চৈত্রাগুনে জ্বলে গেলো আমার বুকের গেরস্থালি
বললো না কেউ তরুন তাপস এই নে চারু শীতল কলস।
লন্ডভন্ড হয়ে গেলাম তবু এলাম।
ক্যাঙ্গারু তার শাবক নিয়ে যেমন করে বিপদ পেরোয়
আমিও ঠিক তেমনি করে সভ্যতা আর শুভ্রতাকে বুকে নিয়েই দুঃসময়ে এতোটা পথ একলা এলাম শুশ্রূষাহীন।
কেউ ডাকেনি তবু এলাম, বলতে এলাম ভালোবাসি।
