আবৃত্তি এবং শামসুর রাহমান—বাংলা কবিতার আধুনিকতায় এক অবিচ্ছেদ্য জুটি। নাগরিক জীবনের যাতনা, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা তাঁর কবিতায় যেমন বলিষ্ঠ, তেমনি শিল্পিত। শামসুর রাহমানের কবিতা মানেই আধুনিক মননশীলতা আর শোষণের বিরুদ্ধে এক আমরণ কাব্যিক লড়াই। আবৃত্তিকারের ব্যক্তিগত রুচি এবং কণ্ঠস্বরের ভিন্নতার কারণে একেকজনের কাছে তাঁর প্রিয় কবিতার তালিকা একেক রকম হয়।
তবুও সাধারণ পাঠক এবং আবৃত্তিশিল্পীদের কথা মাথায় রেখে ‘আবৃত্তি গুরুকুল’-এর পক্ষ থেকে আমরা একটি তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করেছি। আমাদের এই সংকলনটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে, যাতে আপনারা সবসময় নতুন নতুন কবিতার সন্ধান পান।
আপনার পছন্দের কোনো শামসুর রাহমানের কবিতা যদি এই তালিকায় বাদ পড়ে থাকে, তবে অবশ্যই কমেন্টে আমাদের জানান। আমরা পরম আগ্রহে সেটি তালিকায় যুক্ত করে দেব। আপনাদের পরামর্শই আমাদের এই প্রচেষ্টাকে আরও পূর্ণাঙ্গ করে তুলবে।
কাব্যগ্রন্থের নাম ও উল্লেখযোগ্য কবিতা:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০) – তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
রৌদ্র করোটিতে (১৯৬৩)
বিধ্বস্ত নীলিমা (১৯৬৭)
নিজ বাসভূমে (১৯৭০) – স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ের এক অনন্য দলিল।
-
আসাদের শার্ট
-
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
বন্দী শিবির থেকে (১৯৭২) – মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা কালজয়ী গ্রন্থ।
-
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
-
স্বাধীনতা তুমি
ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা (১৯৭৩)
এক ধরণের অহংকার (১৯৭৫)
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ (১৯৮২)
অন্যান্য জনপ্রিয় ও বহুল আবৃত্ত কবিতাসমূহ:
-
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
-
টেলিফোন
-
একটি ফটোগ্রাফ
-
পাণ্ডুলিপি
-
ট্রেন (ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে…)
-
অভিশাপ দিচ্ছি
-
কখনো আমার মাকে
শামসুর রাহমানের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাঞ্জল ভাষা, নাগরিক চিত্রকল্প এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা। আবৃত্তিকারদের জন্য তাঁর কবিতাগুলো কণ্ঠের আরোহী-অবরোহী এবং শব্দের গাম্ভীর্য প্রকাশের এক অসামান্য মাধ্যম। আশা করি, আমাদের এই সংকলনটি আধুনিক বাংলা কবিতার রাজপুত্র শামসুর রাহমানের সৃষ্টির গভীরে প্রবেশ করতে আপনাদের সহায়তা করবে।