হেলাল হাফিজের “নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়” কবিতাটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কবিতা। এর প্রথম দুটি পঙ্ক্তি—”এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় / এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়”—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অমর স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
কবিতাটি রচনার পেছনে রয়েছে একটি বাস্তব ঘটনা। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে, গুলিস্তানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের দমনপীড়ন দেখে কবি অনুপ্রাণিত হন। একজন রিকশাচালকের মন্তব্য—”দেশপ্রেমের জন্য হত্যা করা বৈধ”—কবিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে তিনি কবিতাটি রচনা করেন ।
প্রথমে একটি পত্রিকায় প্রকাশের চেষ্টা ব্যর্থ হলে, কবিতার প্রথম দুটি পঙ্ক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে চিকা আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে একটি লিটল ম্যাগাজিনে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে জলে আগুন জ্বলে”-তে কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয় ।
“নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়” কবিতাটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রেরণার উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি হেলাল হাফিজকে বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ স্থান এনে দিয়েছে।

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।
সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।
যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।
