সরোদ বাজাতে জানলে – পূর্ণেন্দু পত্রী

পুরুষের সব কান্না শব্দ পায় না, কিছু কান্না সুর হয়ে হাহাকার করে। পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘সরোদ বাজাতে জানলে’ কবিতাটি সেই সব অব্যক্ত যন্ত্রণার এক ধ্রুপদী অনুবাদ। মানুষের বিচিত্র সব দুঃখ, স্মৃতি আর অভিমানকে তিনি তিলক কামোদ, সিন্ধুভৈরবী কিংবা ইমনকল্যাণের মতো রাগ-রাগিণীর আবহে বেঁধেছেন। যেখানে শব্দ ব্যর্থ হয়, সেখানে সুরের আশ্রয় খোঁজার এক তীব্র আকুতি এই কবিতার ছত্রে ছত্রে মিশে আছে। যাপিত জীবনের ধ্বংস আর পাওয়া-না পাওয়ার ক্ষতগুলো কীভাবে ‘দরবারি কানাড়া’র মতো গম্ভীর ও সুন্দর হতে পারে, এই কবিতাটি তারই এক অনন্য উদাহরণ।

সরোদ বাজাতে জানলে — পূর্ণেন্দু পত্রী

আমার এমন কিছু দুঃখ আছে যার নাম তিলক কামোদ
এমন কিছু স্মৃতি যা সিন্ধুভৈরবী
জয়জয়ন্তীর মতো বহু ক্ষত রয়ে গেছে ভিতর দেয়ালে
কিছু কিছু অভিমান
ইমনকল্যাণ।
সরোদ বাজাতে জানলে বড় ভালো হতো।
পুরুষ কীভাবে কাঁদে সেই শুধু জানে।

কার্পেটে সাজানো প্রিয় অন্তঃপুরে ঢুকে গেছে জল।
মুহুর্মুহু নৌকাডুবি, ভেসে যায় বিরুদ্ধ নোঙর।
পৃথিবীর যাবতীয় প্রেমিকের সপ্তডিঙা ডুবেছে যেখানে
সেখানে নারীর মতো পদ্ম ফুটে থাকে।
জল হাসে, জল তার চুড়িপরা হাতে,
নর্তকীর মতো নেচে ঘুরে ঘুরে ঘাগরার ছোবলে
সব কিছু কেড়ে নেয়, কেড়ে নিয়ে ফের ভরে দেয়
বাসি হয়ে যাওয়া বুকে পদ্মগন্ধ, প্রকাশ্য উদ্যান।
এই অপরূপ ধ্বংস, মরচে-পড়া ঘরে-দোরে এই চুনকাম
দরবারি কানাড়া এরই নাম?

সরোদ বাজাতে জানলে বড় ভালো হতো।
পুরুষ কীভাবে বাঁচে সেই শুধু জানে।

Leave a Comment